চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর মোহাম্মদ জায়হান নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশুটি। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ প্রতিবেশী একই পরিবারের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর ধরা পড়ার ভয়ে শিশুটিকে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
শিশু জায়হানের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। চিঠিতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি আনলক করা মোবাইলসহ বাড়ির সামনের ভাঙা দোকানে রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রথমে পরিবারটি পুকুরে তল্লাশি চালালেও পরে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং চিরকুটের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার ভোরে আসামিদের বসতঘরের পেছনের একটি ডোবা বা ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে।
স্বজনদের দাবি, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পরও প্রতিবেশীরা পরিবারের সাথে নাটকীয়ভাবে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করেছিল। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।