লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ‘ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি’ নামের একটি আবাসিক স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ওপরের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা তাকে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ তুলেছে।
এই নির্মম ঘটনার পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে স্কুলটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে নিহত ছাত্রের বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার সামনে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিনের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সোমবার রাতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একদল শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে তার ছেলেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। পরদিন মঙ্গলবার মেহেদী স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই নির্যাতনের বিচার দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে তারা আবারও তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে।
নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিনের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সোমবার রাতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একদল শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে তার ছেলেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। পরদিন মঙ্গলবার মেহেদী স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই নির্যাতনের বিচার দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে তারা আবারও তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সোমবার রাতে ‘সন্দেহের বশবর্তী হয়ে’ উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা মেহেদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছিল এবং মঙ্গলবার স্কুল কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলাকালীন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রাবাসের একটি বারান্দা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ধারণা, নির্যাতনের কারণে চরম মানসিক চাপে মেহেদী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
উদ্ধারের পর মেহেদীকে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ও পরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছিল।
উদ্ধারের পর মেহেদীকে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ও পরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছিল।
চাটখিল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের পিঠে ও ঘাড়ের কালচে দাগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।