চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।আটককৃত হুমায়ুন কবির সম্পর্কে ভুক্তভোগী শিশুর দূর সম্পর্কের দাদা এবং একই বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির নাহারা গ্রামের মোল্লা বাড়ীর মৃত ছেরাজুল হক ও মাতা তুরাব জানের পুত্র হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যায় শিশুটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি চাউর হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান-এর দিক-নির্দেশনায় গত ১৬ জুন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। থানার এসআই (নিঃ) মোঃ বেলায়েত উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্সসহ নাহারা গ্রামের অভিযুক্তের বসত ঘর থেকে তাকে আটক করেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) তৎসহ দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার এফআইআর নং-১৭, তারিখ: ১৬ জুন, ২০২৬ এবং জি আর নং-১৬২।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
অপরাধের বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করছে। আসামিকে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে এক নাবালিকা শিশুকে দিনের পর দিন ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ, শাহরাস্তি উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২ জুন উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপিতে গৃহকর্মের কাজে যাওয়া ১২ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ওই শিশুটিও ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬০ বছর বয়সী নাসির উদ্দীন (সম্পর্কে দাদা) এখনো পলাতক রয়েছে।
এছাড়া, গত ১৪ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেহের দক্ষিণ ইউপিতে মালরা গ্রামে জনৈক ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কর্তৃক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে ওই অভিযোগের বিষয়টির অগ্রগতি দেখা যায়নি।
অত্র উপজেলায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইজন বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়ে ২টি শিশুর গর্ভবতী হওয়া এবং আরেকটি শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা সচেতন মহলকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সুধী সমাজ আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন।