টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের চার দিন পর আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাউটেনগর মাছুয়া বিলের পানিশূন্য স্থান থেকে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। নিহত আমিনুল ইসলাম মিন্টু উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।
তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। নিহত মিন্টুর পরিবার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান সংগ্রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রোববার রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ ছিলেন মিন্টু এবং এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজন মাছুয়া বিলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত মিন্টুর ভাই ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থা থেকে মিন্টুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।