ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিনের মাথায় জীবিত আছেন ভেবে মরিয়ম (২০) নামে এক পোশাক শ্রমিক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন তার স্বজনরা। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে প্রায় ৩০০ উৎসুক মানুষের উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
মরিয়ম ওই বাড়ির দিনমজুর খলিল লাহারি ও তাসনুর বেগম দম্পতির মেয়ে। তবে কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় মরিয়মের মরদেহে পচন ধরেছে এবং তিনি মৃত অবস্থাতেই রয়েছেন। এরপর পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গত ২৬ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৮ মে (ঈদের দিন) ভোরে নিজ ঘরে মৃত্যুবরণ করেন। ঈদের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গত ২৬ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৮ মে (ঈদের দিন) ভোরে নিজ ঘরে মৃত্যুবরণ করেন। ঈদের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের কয়েকদিন পর থেকে কবরটি থেকে ‘সুগন্ধি’ বের হচ্ছে বলে একটি অলৌকিক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি মরিয়মের ভাই হাসান ও ছোট বোন স্বপ্নে দেখেন যে মরিয়ম কবরের ভেতর জীবিত আছেন এবং তাকে ভুলবশত জীবিত দাফন করা হয়েছে।
এই স্বপ্নের কথা ও সুগন্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত উৎসুক জনতা কবরটির পাশে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম ও আলেম সমাজ বিষয়টি অবাস্তব বলে পরিবারকে কবরটির ওপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার পরামর্শ দিলেও স্বজনরা কৌতূহল ও মানসিক টানাপোড়েন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে কবরটি খুঁড়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম ও আলেম সমাজ বিষয়টি অবাস্তব বলে পরিবারকে কবরটির ওপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার পরামর্শ দিলেও স্বজনরা কৌতূহল ও মানসিক টানাপোড়েন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে কবরটি খুঁড়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন।
কবর খোঁড়ার কাজে সহায়তাকারী স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু জানান, কবর খোঁড়ার পর দেখা যায় মরিয়ম মৃত এবং তার শরীরে পচন ধরেছে; এছাড়া কবর থেকে কোনো সুগন্ধিও পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, মরিয়ম পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক আঘাতের ফলেই স্বজনরা এমন অলৌকিক স্বপ্ন দেখেছিলেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবার সুগন্ধি ও স্বপ্নের কথা জানিয়ে থানায় এসেছিল এবং তাদের আদালতের অনুমতি নিয়ে কবর খুঁড়তে বলা হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি ছাড়াই স্বজনরা এই কাজ করেছেন।