ঈশ্বরদীতে জমিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টার অভিযোগে ঈশ্বরদী পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। সম্মেলনে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মোছা. আনার কলি ও তাঁর স্বজনরা।
লিখিত বক্তব্যে আনার কলি দাবি করে বলেন ২০২৩ সালে তিনি শহরের রেলগেট এলাকায় আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক সাহাব উদ্দিন মন্ডলের কাছ থেকে বৈধ দলিলমূলে প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দেন।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা কয়েকজন নারী ও সশস্ত্র লোকজন নিয়ে এসে ওই জমি ও দোকান দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ার পর থেকে গত এক বছরে ঐব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল চুরি হলে থানায় প্রত্যেকবার অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি।
আনার কলি বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল নিয়ে গেছেন এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনার কলি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলাদলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা।
তিনি বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে তাঁর প্রয়াত স্বামী শাহান মÐলের সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি জমিটির মালিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাবিবুর রহমান কর্ণেল নামে এক ব্যক্তি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটি অবৈধভাবে ক্রয় করেন এবং পরে সেটি একাধিকবার হাতবদল হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এসময় আবু ইলিয়াস খান, মঞ্জু রহমান খান, আবু বকর খান, নাজির উদ্দিন,আব্দুল আওয়ালসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। রোকেয়া সুলতানা বলেন, “জমিটির বৈধ মালিক আমি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে নেওয়ার জন্য উচ্ছেদ মামলা করা হবে।” একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।