পহেলা ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে লাগাতর কর্মবিরতি করছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
তবে শিক্ষকদের চলমান এই কর্মবিরতির মধ্যেই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা কার্যক্রম বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে সতর্কতা দিয়ে আরও বলা হয়, তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষক বা কর্মকর্তার কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। এ নিয়ে গত ৮ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি করেন শিক্ষকরা। এ কর্মসূচি চলাকালে শহীদ মিনারে পুলিশের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন।