Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / গভীর সমুদ্রে গবেষণায় গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার - Chief TV

গভীর সমুদ্রে গবেষণায় গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার - Chief TV

2026-01-06  ডেস্ক রিপোর্ট  158 views
গভীর সমুদ্রে গবেষণায় গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার - Chief TV

গভীর সমুদ্রে গবেষণা জোরদার করা এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় গবেষণা জাহাজ R.V. Dr. Fridtjof Nansen–এর মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে পরিচালিত জরিপ ও গবেষণার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের পাশাপাশি সমপরিমাণ জলভাগ রয়েছে, অথচ এই বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা কিংবা পরিকল্পিত ব্যবহার এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, “আমাদের সমুদ্রের সম্পদ কতটা, এর সম্ভাবনা কী—এসব আমরা এখনও পুরোপুরি জানি না। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে গবেষণা বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সভায় জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাহাজটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে, যা দেশের সামুদ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

প্রধান উপদেষ্টা জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের মতো দেশের সঙ্গে যৌথ গবেষণার সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সমুদ্রসম্পর্কিত সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। যাদের এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বিত গবেষণা করতে পারলে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।”

জানা গেছে, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। আটটি দেশের মোট ২৫ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশের।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে জানান, এই জরিপে ৬৫টি নতুন জলজ প্রজাতির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত, যা মূলত অতিরিক্ত মাছ ধরার ফল। পাশাপাশি দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় বর্তমানে গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং স্বল্প গভীর পানিতে মাছের ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করছে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মাছ লক্ষ্য করে শিকার করছে। এই পদ্ধতিকে তিনি অত্যন্ত আগ্রাসী বলে উল্লেখ করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। সোনার ফিশিংয়ের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছের নার্সারি অঞ্চল শনাক্ত হয়েছে, যা সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


Share: