সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফল প্রকাশকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) এবং চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে এবং শিগগিরই ফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে সামছুল আহসান সোমবার রাতে জানান, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে ফল প্রকাশে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়নের কাজ শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফল প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অনুমানভিত্তিক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট দিন চূড়ান্ত করা হয়নি। ঠিক কবে ফল প্রকাশ হবে—এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরীক্ষা বাতিল হবে বা ফল প্রকাশ করা হবে না—এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। ফল প্রস্তুত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার আগে ও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দাবি করে সেগুলো অনলাইনে শেয়ার করেন। একই সঙ্গে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে তথাকথিত ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে দুজন রয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনেও নামে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো পরীক্ষা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।