প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কেউ নতুন করে জীবন শুরু করেন, আবার কেউ বেছে নেন নিভৃত কোনো পথ। ঝালকাঠির এক যুবকের জীবনগল্প ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। তরুণ বয়সে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত ১৫ বছর ধরে তিনি জঙ্গলে একাকী বসবাস করছেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের বাসিন্দা পলাশ বড়াল বর্তমানে এলাকায় এক পরিচিত মুখ। স্থানীয়দের কাছে তিনি জঙ্গলে একাকী বসবাসকারী মানুষ হিসেবেই পরিচিত। ঘন সবুজে ঘেরা নির্জন স্থানে কাঁদামাটি দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঘর, পাশে খনন করা একটি পুকুর এবং চারপাশে গাছপালা—এই নিয়েই তার জীবন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক কিশোরীর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল পলাশ বড়ালের। পরে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে একসময় পুরোপুরি নিভৃত জীবন বেছে নেন।
গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার বিয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু জঙ্গলে একাকী জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আরও বেশি নিভৃতচারী হয়ে ওঠেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পলাশ কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না, নিজের মতো করেই জীবনযাপন করেন। এলাকার মানুষ তার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং মাঝে মাঝে তার জীবনযাপন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষও সেখানে যান।
নিজের অবস্থার বিষয়ে পলাশ বড়াল জানান, তিনি কাউকে দোষ দেন না। তার ভাষায়, সবই ভাগ্যের লেখা, মানুষের প্রতি কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। জঙ্গলের এই নির্জন পরিবেশেই তিনি শান্তি খুঁজে পান বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই যুবকের এই ব্যতিক্রমী জীবন অনেকের কাছেই বিস্ময় ও কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাখ্যাত এক ভালোবাসা কীভাবে একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, পলাশ বড়ালের গল্প যেন তারই এক নীরব উদাহরণ।