ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এ সময় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১৬ জনের সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।
১৬ জনের সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।
রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিন অর্থাৎ, ৩ মাস ২৬ দিনের মধ্যে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য নজির স্থাপিত হলো, যা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।
রায় ঘোষণার পর নিহত শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা-মা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ঘাতক আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।