যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থেকে ইরান শুধু টিকেই থাকেনি, বরং ওয়াশিংটনকে একটি ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ উপহার দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলি আকবর দারেইনি।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় অর্জন, তবে এই অর্জন কেবল দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের আক্রমণাত্মক যুদ্ধ থেকে টিকে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের অর্জন এর চেয়েও অনেক বেশি।’
দারেইনি বলেন, ‘ইরান মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের সামরিক স্থাপনাগুলোও রক্ষা করতে পারেনি, তাদের আরব মিত্রদের কথা তো দূরের কথা। এখন সবাই বুঝে গেছে যে, আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলো আরবদের রক্ষা করার জন্য নয়, বরং ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্যই আছে।’
দারেইনি আরও জানান, ইরান এমন এক ধরনের জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করেছে, যা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
তার মতে, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে কীভাবে ইরানিরা জাতীয় পতাকার চারপাশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইরান তার জাতীয় সংহতি প্রদর্শন করেছে এবং বিদেশি চাপ ও আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার না করার যে কৌশলগত সংস্কৃতি, তা প্রমাণ করেছে।
ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া এই সমঝোতা স্মারক নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রমাণ বলে তিনি দাবি করেন। দারেইনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে শেষ করে দেবে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত ব্যর্থতা এবং ইরানের জন্য একটি কৌশলগত বিজয়।’