কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি বাড়িতে রাতের অন্ধকারে গ্রিল কেটে প্রবেশ করে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং একই সাথে মা ও তার স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে উপজেলার মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা বাড়িতে অবস্থানরত এক নারী ও তার স্কুলপড়ুয়া কন্যাকে জিম্মি করে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা মিলে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর ভাগ্নির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন এবং মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে থেকে অধিকতর তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।