Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / শিশু আয়াত হত্যায় আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড - Chief TV

শিশু আয়াত হত্যায় আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড - Chief TV

2026-06-17  ডেস্ক রিপোর্ট  40 views
শিশু আয়াত হত্যায় আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড - Chief TV

চট্টগ্রামে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি আবীর আলীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শনিবার একই আদালতে এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আবীর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত, নৃশংস ও নির্মম, যা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং এটি 'ক্রাইম পেট্রোল' দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিনও জানান যে, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে দেখা যায়, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার সাথে তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির জড়িত ছিলেন। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পিবিআই জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশের খণ্ডিতাংশ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। তবে বন্ধুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটি আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


Share: