ভোলার লালমোহনে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মো. ইব্রাহীম খলিল নয়ন নামে এক কলেজছাত্রকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর পর হত্যাকাণ্ডেই ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে মো. আব্দুল্লাহ আল মানিক নামে এক স্কুলছাত্র।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে লালমোহন পৌর এলাকার সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের সড়কে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন লালমোহন পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
অন্যদিকে ঘাতক মানিক লালমোহন ইউনিয়নের ফুল বাগিচা গ্রামের বাসিন্দা এবং নাঙলখালী আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে হঠাৎ করেই সামান্য বিষয় নিয়ে তুমুল কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এর একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক ধারালো ছুরি দিয়ে নয়নের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
এ সময় নয়নকে বাঁচাতে গিয়ে মো. আশরাফ ও আরমান নামে আরও দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার পরেই মূল অভিযুক্ত মানিক নিজেই ব্যবহৃত ছুরিসহ থানায় এসে হাজির হয় এবং পুলিশ তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করে।
মূলত একটি বিষয়ে নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এবং এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।