প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা। রমজান মাসে রোজা রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও উপস্থিত থাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির স্বাক্ষরিত একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তালিকাটি সত্য হলে সেখানে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ছে বলে দাবি সংগঠনটির।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগের বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবারকে ছুটির হিসাবের ক্ষেত্রে ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণ্য করা হতো। চলতি ছুটির তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শূন্য দিন ধরা হয়েছে। কিন্তু একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির সময়ের মধ্যে থাকা দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে যোগ করা হয়েছে। একইভাবে ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ছয় দিন অতিরিক্তভাবে ছুটির হিসাবে যুক্ত হয়েছে, যা আগের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই ধরনের বৈষম্য ও অসংগতির কারণে শিক্ষক সমাজের পাশাপাশি সচেতন অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র একটি মাস। এ সময় সিয়াম পালন করে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা তাদের শারীরিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী। বিদ্যালয়ের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়াও তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বাৎসরিক ছুটির তালিকাটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।