সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এ মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলা এ কার্যক্রমের বাইরে থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জেলা পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। যেসব জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেখানে একাধিক বোর্ড গঠন করে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে।
মৌখিক পরীক্ষার আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসবের মধ্যে রয়েছে—অনলাইনে আবেদনকালে আপলোড করা ছবি, আবেদনপত্রের কপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ। সংশ্লিষ্ট কোটায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট ও সম্পর্ক সনদ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের সনদ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকের সনদ জমা দিতে হবে।
উল্লিখিত সব কাগজপত্র ন্যূনতম নবম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত করে আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় মূল কপিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার দিন এসব সনদের মূল কপি ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সঙ্গে আনতে হবে।
মৌখিক পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন, যারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এর আগে চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার (পার্বত্য তিন জেলা বাদে) ২ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ১০ লাখের বেশি প্রার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী।