দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় যমুনা নদীর নাব্যতা ফেরাতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় যমুনা নদীর মেঘাই ঘাটের দক্ষিণ পাশে এই খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
মেঘাই নদীবন্দর থেকে যমুনা নদীর মাঝখানে অবস্থিত নাটুয়ারপাড়া নদীবন্দর ঘাট পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং করা হচ্ছে। এই খনন কাজের মাধ্যমে কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরে অবস্থিত ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চরবাসীরা।
প্রায় একশ বছর ধরে যমুনা নদী দ্বারা বিভক্ত কাজিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন চরাঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানে প্রায় পৌনে দুই লাখ চরবাসীর উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। কিন্তু প্রতিবছর শীত মৌসুমে যমুনা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় চার মাস এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় নৌকা থেকে নেমে নৌকা ঠেলে নদী পার হতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। তীব্র শীত ও কুয়াশায় এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
উপজেলার মেঘাই ও নাটুয়ারপাড়াকে নদীবন্দর ঘোষণা করা হলেও এতদিন এই অঞ্চলের মানুষ তেমন কোনো সুফল পায়নি। বারবার নদী খননের দাবি জানিয়ে দরখাস্ত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও কয়েকটি নৌচ্যানেলে ড্রেজিং করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এরই ধারাবাহিকতায় এই চ্যানেলে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।
মেঘাই ঘাটের নৌচালক রহিম মিয়া বলেন, ‘ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে এখন আমাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক জায়গায় নৌকা থেকে নেমে ঠেলে পার হতে হয়। খনন হলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে।’
নাটুয়ারপাড়া ঘাটের একাধিক যাত্রী জানান, ‘নদী খনন হলে যাতায়াতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় কমবে। এতে পণ্য পরিবহনসহ চলাচলের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।’
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চরাঞ্চলে কাজ করার সুবাদে এখানকার যোগাযোগ সমস্যার বিষয়টি আমি আগেই উপলব্ধি করেছি। তাই শীতের শুরু থেকেই এ বছর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএকে চিঠি দিয়ে এবং সব দিক থেকে চেষ্টা চালিয়ে এই ড্রেজিং কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি, এতে চরবাসীর চলাচলের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে লাঘব হবে।’
উদ্বোধনকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাজিপুর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আসফাক ও ক্যাপ্টেন গালিব এবং বিআইডব্লিউটিএর সাইট ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ ও মামুন উপস্থিত ছিলেন।