গাইবান্ধা জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যার প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত ‘প্রমাণ ও তালিকা’ ফাঁস হওয়ার পর জেলাজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এতে সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন উপজেলার আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট পরিচিত মুখদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি গোপন WhatsApp গ্রুপে এসব নিয়ে পরিকল্পিত আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে “কিলিং মিশন” বাস্তবায়নের প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় জেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর নেতারা বলছেন, এটি শুধু ভয় দেখানোর কৌশল নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। একাধিক ছাত্রনেতা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি ও নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
একজন শীর্ষ ছাত্রনেতা বলেন,
“আমাদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে এবার সরাসরি তালিকা তৈরি করে হত্যার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, কিন্তু আন্দোলনের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না।”
এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্রকাশ্য তৎপরতা ও মিছিলের মধ্যেই এ ধরনের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এসেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, ফাঁস হওয়া তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।