নওগাঁর মান্দা উপজেলায় প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের সমন গোপন করে আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে থানাপুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের সমন হাতে না পাওয়ায় আদালতে হাজির হতে পারেননি তারা। ফলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়।
উপজেলার রামনগর ও বড়পই গ্রামের দুটি ঘটনায় স্থানীয়রা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘সমন বাণিজ্যের’ অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমন গোপন রেখে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রামনগর গ্রামের মিঠু কুমার প্রামাণিক জানান, দুর্গাপূজার দশমীর দিন হরিতলা মণ্ডপে আরতি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দোলন দাসের সঙ্গে শুভ কুমারের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিষয়টি মীমাংসা হয়। অথচ প্রায় চার মাস পর গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতিবন্ধী শুভ কুমার ও তাকে গ্রেপ্তার করে।
মিঠু কুমার অভিযোগ করেন, মান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সমন গোপন করেন। এতে তারা নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হতে না পারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে বড়পই গ্রামের ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। সমন না পৌঁছানোয় তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। রোববার তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহরিয়ার শিমু বলেন, প্রসিকিউশন মামলায় আদালতের জারি করা সমন পুলিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পৌঁছানোর কথা। তা না হলে বিষয়টি আইনবিরোধী। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতে খোঁজ নিতে বলেন।
অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি ওসি জানেন—এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।