পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। তিনি বরিশাল জেলার বাউফল উপজেলার বায়োরগাতি এলাকার আবদুল খালেক হাওলাদারের মেয়ে। তার স্বামী রিফাত (২১) কুয়াকাটার একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে দম্পতি কুয়াকাটায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।
স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল জানান, রাতে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আরেক প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ কান্নার আওয়াজ পেয়ে বাইরে এসে দেখেন, নিহতের স্বামী দরজার কাছে বসে কান্নাকাটি করছেন। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক কিশোরী নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সিআইডির একটি টিমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।