রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফারহানা সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগ ফাঁকা রেখে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দায়িত্ব পালনে অনীহা থাকার কারণে জরুরি সেবা প্রাপ্ত রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
আমজাদ হোসেন নামে এক স্থানীয় রোগীর স্বজন বলেন, “জরুরি বিভাগে ডাক্তার না পেয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পরে জানতে পারি তিনি বাইরে চেম্বারে রোগী দেখছেন। এটা আমাদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা।”
আরও একজন রোগী সবুজ বলেন, “বুকের ব্যথা নিয়ে আমি ইমার্জেন্সি বিভাগে এসেছি, দেখি কোনও ডাক্তার নেই। দীর্ঘ ২০ মিনিট অপেক্ষার পর জানতে পারি তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন।”
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্বে অবহেলা গুরুতর অনিয়ম। শুধু মৌখিক সতর্কতা দিয়ে কোনো সমাধান হবে না। দ্রুত তদন্ত করে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নীরবতা চালিয়ে গেলে সরকারি সেবার ওপর মানুষের আস্থা হ্রাস পেতে পারে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজয় সাহা জানান, “বিষয়টি আমাকে আরএমও জানিয়েছেন। তিনি তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফারহানা সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আপনারা যা পারেন লেখুন, এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।”
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা জানান, “এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। ডিউটিরত অবস্থায় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন কাজ করেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”