নীলফামারী–৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ সিদ্দিকুল আলমের নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে কাঠ পড়ে ভ্যানযাত্রী এক শিশুর মাথা ফেটে গেছে। একই সঙ্গে শিশুটির মা ও ফুফুও আহত হয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোডে চেলুখাঁ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিশুটির নাম সোহাগী (১২)। সে নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জাকেরগঞ্জ ডাঙ্গাপাড়ার মো. শহীদের মেয়ে।
আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতাল থেকে একপ্রকার জোরপূর্বক বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে সংবাদকর্মীরা গেলে জাপা প্রার্থীর লোকজন বাধা দেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকের কক্ষও ঘিরে রাখা হয়।
শিশুটির ফুফু সাবিনা বলেন, “আমরা ভ্যানে করে সৈয়দপুর টার্মিনাল থেকে শহরের দিকে যাচ্ছিলাম। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র ওপর থেকে একটি কাঠের তক্তা এসে পড়ে। এতে আমার ভাতিজির কপাল গভীরভাবে কেটে গেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি। কিন্তু ভবনের মালিকের লোকজন আমাকে কোনো চিকিৎসা নিতে দেয়নি। শুধু মেয়েটার কাটা জায়গায় সেলাই করে আমাদের দ্রুত বাড়ি পাঠাতে ব্যস্ত ছিল।”
শিশুটির মা সেলিনা বলেন, “এত বড় ঘটনা ঘটেছে, অথচ তারা বলছে সামান্য ব্যাপার। মেয়েটাকে টানাহেঁচড়া করছে। আমাদের রেখেই মেয়েকে নিয়ে চলে যেতে চাইছিল। পরে পুলিশ ও সাংবাদিকরা বাধা দেওয়ায় ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ দেন। জানি না মেয়ের কী হবে।”
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ আক্তার বৃষ্টি জানান, শিশুটির কপালের আঘাত গুরুতর হলেও হাড় পর্যন্ত পৌঁছেনি। কাটা স্থানে চামড়ায় দুই স্তরে মোট ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, “সম্ভবত যারা শিশুটিকে নিয়ে এসেছিল তারা হাসপাতালে রাখতে চাননি। তাই ভর্তি করা হয়নি। তবে শিশুটিকে আমি দেখিনি। ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন, পরিবারের সম্মতিতেই তাদের যেতে দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসী জানান, নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটি রেলওয়ের বাংলো নম্বর–৩০-এর জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা করলেও কাজ বন্ধ করেননি সাবেক এমপি (২০২৪) ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ সিদ্দিকুল আলম। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কের পাশে এত বড় ভবনের কাজ চললেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত শিশুটির আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জাপা এমপি প্রার্থী আলহাজ সিদ্দিকুল আলম বলেন, “এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হয়েছে। তার মা ও ফুফুকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাবাকেও ডাকা হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ করার কিছু নেই।” নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।