ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিদিনই নীরবে ঘটছে। কেউ সাহস করে অভিযোগ করেন, কেউ ভয়, লজ্জা বা অনিশ্চয়তার কারণে নীরব থাকেন। যারা অভিযোগ করেন, তাদের জন্য শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা—অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও ফলাফল পর্যন্ত। অনেক শিক্ষার্থী আশঙ্কা করছেন, এই প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীরা আদৌ ন্যায়বিচার পান কি না।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবিরকে আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠিত হলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন, এখনও দৃশ্যমান কার্যক্রমের অভাব রয়েছে।
শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, “যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর হয়নি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
সম্প্রতি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, “তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে, এরপর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।”
প্রশাসনের উদ্যোগ
যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে ঢাবি প্রশাসন অভিযোগ গ্রহণের জন্য প্রতিটি অনুষদ, হল ও অফিসে বক্স স্থাপন করেছে। গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সিল্ড খামে অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। এছাড়া দুটি পৃথক ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে অভিযোগ করা সম্ভব, যার অ্যাক্সেস শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সেল সদস্যদের কাছে থাকবে।
ড. উপমা কবির জানান, পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটি আগের কয়েকটি অনিষ্পন্ন অভিযোগ এবং নতুন অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে তিন থেকে চারটি ঘটনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে।
নীতিমালা প্রণয়ন
উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা বলেন, “সিন্ডিকেট নির্দেশনায় যৌন নিপীড়ন ও বুলিং মোকাবিলার জন্য বিস্তৃত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে অভিযোগ, শাস্তি, প্রযোজ্য আইন ও প্রশাসনের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।”
দীর্ঘসূত্রিতা ও স্বচ্ছতা
সায়মা হক বিদিশা বলেন, “ঢাবিতে শিক্ষার্থী ও অনুষদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অভিযোগ পরিচালনা জটিল। শিক্ষার্থীরা প্রথম সাক্ষাৎকারে সব তথ্য জানায় না, তাই কয়েকবার সাক্ষাৎ নিতে হয়। আমরা দীর্ঘসূত্রিতা বজায় রেখে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি চালাচ্ছি, যাতে এটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়।”