আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতীক বরাদ্দ এখনও বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে নির্বাচনী অঙ্গনে শুরু হয়েছে ভোটের অঙ্ক কষা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে হচ্ছেন এই আসনের সম্ভাব্য পরবর্তী সংসদ সদস্য। সরেজমিনে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে।
বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তিন রাজনৈতিক ধারার অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্ব। বিএনপির মনোনয়নীত হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব রহিম উদ্দিন ভরসার পুত্র এবং কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এমদাদুল হক ভরসা। নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি৷
অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনয়নে আলোচনায় উঠে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
এদিকে, জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে মাঠে রয়েছেন পীরগাছা উপজেলা পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মরহুম শাহ্ মোঃ মিজানুর রহমানের পুত্র আবু নাসের শাহ্ মোঃ মাহবুবার রহমান। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাকে একটি শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ জাহেদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিলেও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন—এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয়ের মুকুট উঠবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
তবে জনগণ বলছে -এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটাররা এবার ব্যক্তি পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনেক ভোটারের মতে, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি যিনি এলাকায় নিয়মিত থাকবেন এবং মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন, তার দিকেই ঝুঁকবে ভোট। আবার কেউ কেউ বলছেন, তরুণ নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে রংপুর-৪ আসনে ভোটের চূড়ান্ত চিত্র এখনো স্পষ্ট না হলেও প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনী প্রচারের পর প্রকৃত সমীকরণ পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।