দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণ, ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া রাজস্ব আয় এবং স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সংকটের কারণে অর্থনীতির গতি কমে গেছে এবং ব্যাংকিং খাতেও আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, মোট ঋণের বড় অংশই এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় সেই তুলনায় বাড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।
এদিকে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। পাশাপাশি কর আদায়ের হার কমে যাওয়ায় সরকারের আয় কমেছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নও ধীরগতিতে চলছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিনিয়োগ বাড়ানো, রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং কর্মসংস্থান তৈরি—এই চারটি খাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তা না হলে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।