দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭২টি আসনে জয় পেয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনেই জয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শাসনভার ছিল বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে। সেই ধারাবাহিকতার পর ২০২৬ সালে আবারও দেশে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
এদিকে নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য জুমার নামাজের পর সারাদেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার ব্যবস্থা রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়। এরপর কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা শুরু হয়।
শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। এছাড়া বিশ্বের ১২৪টি দেশে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।